জুমন
ভাইর সাথে চ্যাট হচ্ছিল ফেসবুকে। হটাত সে একটা প্রস্তাব দিল “ চলেন সজল ভাই
কোথাও একটা ক্যাম্পিং করি। আপনে আর আমি তো বেশ কদিন হলো আপনার লাল তাবুতে থাকিনা“ আমিও মত
দিলাম। চলেন কোথাও যাই ... দু-চাইরডা মুরগী পোড়াই খেয়ে আসি আর তাবুর ভেতর থেকে চাঁদ
দেখি। আমি , মামুন ভাই আর জুমন ভাই এই থ্রি ম্যাসকেটিয়ারের কোন ট্রিপ প্লান হলে
সাধারণত প্লানার বা ম্যানাজার ক্যাম কুক আমিই থাকি। এ দুজন আমার উপর সকল দায়িত্ব
দিয়ে নাক ডেকে ডেকে ট্রিপে ঘুমায় আর ফটো খিচে। কিন্তু এবার তা হতে দিলামনা। সব দায়িত্ব
ছেড়ে দিয়া হলো জুমন ভাইর উপর। তো উনি প্লান করলেন আমারা মামুন ভাইর বাসায় ক্যাম্প
করবো। উনার পটিয়াতে বাড়ী আছে। মামুন ভাইকে বলতেই উনিও এক পায়ে খাড়া ।
২ জানু, ২০১৪
১৯ ডিসে, ২০১৩
ভারত ভ্রমণ। পর্ব:- আজমীরের ছোট ছোট পাহাড়ে।
আমি আমার ভারত ভ্রমণ নিয়ে অনেকদিন ধরে পর্ব পর্ব করে লিখে আসছি। প্রতিটি পোস্টের নিচে “নোটে” বিস্তারিত খরছ , হোটেল , খাওয়া-দাওয়া , গাড়ী ভাড়া ও অন্যান্য জিনিস লিখায় তুলে ধরার চেষ্টা করছি,যাতে পরে কেউ যেতে চাইলে আমার ব্লগ পোস্টটি সাহায্যে আসে আর সব প্লান করে যেতে পারে। আগের পর্বে কোলকাতা , দিল্লী , আগ্রা এবং জয়পুর নিয়ে লিখেছিলাম। এ পর্বে আজমীর নিয়ে লিখলাম।
০৪-১২-২০১২
সকালে
৯টার দিকে হোটেল
থেকে চেক আউট করে জয়পুর সেন্ট্রাল বাস স্টেশানে এসে বসলাম। প্রতি ১৫ মিনিট পর পরই
আজমীরের জন্য বাস ছাড়ে। তাই টিকিট কাটতে কোন ঝামেলা হলোনা। তারপরেও আমি একঘন্টা
পরের বাসের টিকিট কাটলাম। তাড়াহুড়া আর ভালো লাগতেছিলনা। এই কতদিন তো ইন্ডিয়ার
ভতেরে অনেক দৌড়াদুড়ি করলাম। তাই রিলাক্স ভাবে এ এক ঘন্টা আবার জয়পুরের এদিক সেদিক
হাটতে লাগলাম।কয়েকটা সুপার মার্কেটে টু মারলাম এরপর সিনেমা হল গুলাতে টিকিট প্রাইজ
কেমন তা দেখলাম। জয়পুর শহরটা খুব ভালো লাগে আমার , কেন কেই বা জানে ? শহরটা
সুন্দর আর পরিস্কার। তাই হয়তো।
৩ ডিসে, ২০১৩
হেটে হেটে টেকনাফ থেকে কক্সবাজার যাওয়া।
এই পোস্টের শিরনাম
দেখে হয়তো অনেকে ভেবে বসেছেন,এই লোকগুলো এত গরিব বা কিপ্টা কেন ? !!।হেটে হেটে ৮০
কি:মি: রাস্তা পাড়ি দিয়ে টেকনাফ থেকে কক্সবাজার এসেছে!... ব্যাপারটা
কিন্তু অন্য। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের বা বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা সমুদ্র
সৈকতে হেটে বেড়ানো। “ভ্রমণ বাংলাদেশ”
নামের একটা গ্রুপ প্রতি বছর এ ট্রিপ বা হাটা-হাটির আয়োজন করে। ইভেন্টের নাম হয় “স্বপ্নের
সৈকতে একে যায় পদচিহ্ন” । টেকনাফ থেকে ট্রেকিং করে আমরা ৮০
কি:মি: দুরের কক্সবাজারে যাবো। পথে দুবার ক্যাম্পিং আর বারবিকিউ। প্রায় দুই বছর পর আমার
সে ভ্রমণের গল্পটা লিখেই ফেল্লাম, পড়ে দেখতে পারেন :-
২০ নভে, ২০১৩
সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে।
চন্দ্রনাথ পাহাড়ে আমি বহুবার উঠেছি। যখনি মন খারাপ হয়েছে বা সীতাকুন্ডে ফুফূর বাসায় ঘুরতে যায় ওই পাহাড়ে উঠে যায় । আমি চন্দ্রনাথে উঠে মন্দিরের পাশের একেবারে খাদ ঘেসে যে পাথরের রেলিং আছে সেটাই বসে থাকতে ভালোবাসি। ভিউটা অসাধারণ লাগে দুরে সমুদ্র দেখা যায় মাঝে শহরটা ।এটা বোধহয় পাহাড়কে ভালোবাসি তাই। কিন্তু বাংলাদেশের পাহাড়ের স্বর্গ হলো বান্দরবান, যেটা আমার বাসা থেকে ৮০ কি:মি দুর আর চন্দ্রনাথ হলো মাত্র ৩৫ কি:মি দুরে। তাই চন্দ্রনাথে দিনে গিয়ে দিনে চড়ে আসা যায় বলে এ পাহাড়টার সাথে আমার একটা বন্ধুত্ব হয়ে গেছে।
প্রথম এই পাহাড়টাই আমাকে নিয়ে যায় আমার এক বন্ধু। সনজয় কুমার নাম ওর। দারুন একটা ছেলে। আজ সেই গল্পটাই লিখতে বসলাম :-
১১ নভে, ২০১৩
রিসাং ঝর্ণা আর আলুটিলার পথে।
এই ইভেন্টটা ACC বা এডভেন্চার ক্লাব আব চিটাগাং এর প্রথম অফিসিয়াল ইভেন্ট
ছিল। এর আগেও ACC অনেক ক্যাম্পিং
এবং ভ্রমণ ইভেন্ট করলেও এটা ছিল তাদের বা আমাদের প্রথম অফিসিয়াল ভ্রমণ ইভেন্ট। তখন
আমি এ গ্রুপটার সাথে খুব ভালো ভাবেই যুক্ত ছিলাম। আমাদের আড্ডা বসতো চট্রগ্রাম
শপিং কমপ্লেক্স এর পেছনের একটা গলিতে। এই আড্ডার মধ্য মনি সবসময় থাকতো মো: জাফর
বেগ ভাই। আর ১৫০ সি:সি মোটর বাইক নিয়ে সবসময় দেরি করে আসতো চন্দন ভাই। সেই আড্ডা
খানায় লেবু দেওয়া রং চা খেতে খেতে একদিন হুট করেই প্লান হলো যে আমরা খাগড়াছড়ি
যাবো। রিসাং ঝর্ণায় প্যান্ট ছিড়বো। আলুটিলার গুহায় হারিয়ে যাবো। :-
২৯ অক্টো, ২০১৩
ক্যাম্পারভ্যানে নিজের দেশ ঘুরা দেখা।
আমার একবার
সুযোগ হয়েছিল নিজের দেশটাকে কিছু বিদেশীদের সাথে তাদেরই ক্যাম্পার ভ্যানে বা হোম
ভিহাইকেল করে ঘুরে দেখার। অসাধারণ একটা ট্রিপ ছিল আমার জন্য। ৩৩ জন বিদেশি যাদের
বেশির ভাগ জার্মানির এবং কয়েকজন স্পেন , কয়েকজন ইতালীর , একজন ভারতীয় এবং একজন
ইরানের ছিল।
এই ১৭ দিনে আমরা
যশোর থেকে যাত্রা শুরু করি। রুট প্লান ছিল এরকম :- যশোর - ঢাকা - চট্রগ্রাম - কক্সসবাজার - টেকনাফ - কেরানী হাট বান্দরবান
- রাঙ্গামাটি- চট্রগ্রাম - কুমিল্লা - মৌলভীবাজার - টাঙ্গাইল
- রংপুর - বুড়িমারি। অর্থাৎ আমারা
পুরা বাংলাদেশে একটা Y এর মত ট্যুর
দিয়েছিলাম। তখন দেশের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এই ১৭ দিনে আমরা ৪টি হরতালের
মুখোমুখি হই। যার ফলে ঘুরা ঘুরি খুবই কমই হয়েছিল বলতে গেলে খালি ড্রাইভ আর ড্রাইভ
করেছি আমরা। যেহেতু আমাদের সাথের গাড়ি গুলোতে থাকা , রান্না করা , বাথরুম , টিভি
সব ছিল। হরতালেও আমরা কম মজা করিনি। গাড়ি চালিয়ে বাংলার রাস্তায় রাস্তায় দাপিয়ে
বেড়িয়েছি , আর যেখানে খুশি ক্যাম্প করেছি। এ যাত্রার গল্পটি নিচে লিখলাম। আমার
অন্যান্য লিখার মত বিস্তারিত লিখতে পারিনি কারণ ট্রিপটা অনেক আগের ছিল। আর যে
ডায়েরিতে সব লিখেছিলাম তা পথে হারিয়ে ফেলি। যা মনে আছে তাই লিখলাম। আর ছবিও অতো
বেশি তুলিনি। যশোরের কিছু ছবি আমার এক ছোট ভাই কাম প্রিয় ফটোগ্রাফার ( সাজ্জিদ )
এর ক্যামেরার থেকে নিয়েছি। গল্পটা পড়তে পারেন এখানে :-
১৩ অক্টো, ২০১৩
বান্দরবানে হারিয়ে যাওয়ার গল্প।
শেষ কবে বান্দরবান গিয়েছিলাম ? এইতো কদিন আগেইতো। কিন্তু
সেগুলো ছিলো সিটি ট্যুর বা কোন কাজে। এডভেন্চারের উদ্দেশ্যে বহুদিন বান্দরবান
যাওয়া হয়না। শেষ এডভেন্চারের গিয়েছিলাম নাপাখুম / নাফাখুম। এরপর সীতাকুন্ড ,
মীরসরাইয়ে এডভেন্চার , হাইকিং এবং ক্যাম্পিং এর লোভে আটকা পড়েছিলাম। বাংলার
স্বর্গের কথা ভুলতে বসেছিলাম। তাই উঠে পড়ে লাগলাম। চাতুর কাক ভাই,রাব্বি ভাই এবং
সালেহীন ভাইকে খুচিয়ে খুচিয়ে তথ্য সংগ্রহে লেগে গেলাম। মেলা পিড়া দেওয়া শুরু করলাম
তাদের :P । অনেক প্লান করলাম। রুট ঠিক করলাম। গুগল আর্থে ওই স্থান গুলোই ডিজিটাল
মিডিয়ার মাধ্যমে বাসায় বসে বসেই ঘুরতে লাগলাম। হাফ ঘুরাতো গুগল আর্থেই যেন সেরে
ফেল্লাম। একবার প্লান হয় ক্রিজ হাং / তাং যাবো বা আরেকবার প্লান করি টোয়াইন খালে
ঘুরবো এদিক সেদিক। ফেসবুকে ইভেন্ট হলো। জুমন ভাইকে হোস্ট বানালাম। কিন্তু বেটা শেষ
মুহুত্বে পিঠ দেখালো। বন্ধুর বিয়ে। বান্দরবানের মুরং তরুণীদের সাথে দেখা করার থেকে
তার কাছে তখন বিয়ের আসরে নতুন ভাবী আর তার বোনদের সাথে দেখা করার আগ্রহ বেশী ছিল।
যাই হোক শেষ মুহুত্বে সে বাদ গেল। এর পর রুপা দিদি ... যিনি প্রায় দুই মাসের মত
আমাদের সাথে এই ট্রিপে যাওয়ার প্লান করতেছিল তিনি শেষ মুহুত্বে একেবারে বাসে উঠার
ঘন্টা খানেক আগে ফোনে বলল “সজল আমি যাবোনারে , অফিসের জরুরী মিটিং .. “ মনটাই খারাপ
হয়ে গেল। শেষে চট্রগ্রাম থেকে ২৬-০৯-২০১৩ তে বিকাল চারটায় শুধু আমি আর হাফিজ ভাই
রওনা দিলাম। ঢাকা থেকে তপন দা , প্লাবন ভাই আর দলের সবচেয়ে কিউট ছেলে ইউসুফ ভাই
রওনা দিল।
এ ট্রিপে অনেক কিছুই হইছে। আমরা পথ হারাইছি , তপন দাদার (উনাকে শহরে ভাই
ডাকা যেতে পারে ) ঝারি খাইছি :P , ঝোঁকের সাথে যুদ্ধ করছি , তপন দাদা জিপিএস নিয়ে
ডিসপ্লের দিকে তাকিয়ে যেদিকে হাটা ধরছে , তার পেছন পেছন আমরা ভেড়ার পালের মত খালি
হাটছি আর উঠছি , রাতে সাংগা দাদার জুম ঘরে রাত কাটাইছি , সজারুর কাচা মাংস খেয়ে
ওয়াক থু থু করছি। কই যে গেছি নিজেরাও যানিনা।
হা এখন বলতে পারেন ট্রিপে আমরা কোনটাই সফল হইনি। না
ক্রিজ হাং এর সামিট পয়েন্টে গেছি না রুংরাং এর সামিট পয়েন্ট পাইছি। আবার টোয়াইন
খালের ধরে বেশি দুরও যাইনি। কি ? মনে মনে বলতেছেন .. হুর ভুয়া ট্রিপ
দিসে...কিস্সুই তো হইনি এই ট্রিপে। আমি বলবো “সবকিছু যদি
প্লান মত হয় তবে সেটাকে এডভেন্চার বলেনা , আর একটা ভ্রমণ যাত্রায় আমার মতে
গন্তব্যের থেকে যাত্রাটায় বড়।“ এই ট্রিপটা আমার করা সেরা ট্রিপগুলার একটা অবশ্যই। আর
হাফিজ , তপন দাদা , প্লাবন ভাই আর ইউসুফ ভাই ছাড়া এটা সম্ভব ছিলনা।
আরে কই যান ? উপরের লিখা গুলাতো শুরু ছিল .. মুল গল্প
নিচে। :-
৭ অক্টো, ২০১৩
ভারত ভ্রমণ।পর্ব – জয়পুর (দি সিটি অব পিংক)
২-১২-২০১২
----------------------------------
সকাল ১২:৩০ এর ট্রেন। ব্যাকপ্যাক কাধে আর হাতে টিকিট নিয়ে
প্লাটফর্মে দাড়িয়ে আছি। বসার কোন স্থান নেই। মানুষ আর মানুষ। হেলে দুলে ট্রনটা আসলো
১২:৪০ এ।ঠেলে ঠুলে উঠে বসলাম নিদৃষ্ট সিটে।
ট্রেনের নাম “আস্রম এক্সপ্রেস” এটা মনে হয় এহমেদাবাদ পর্যন্ত
যায়।আমি নেমে যাবো জয়পুরে। দিল্লী শহরটাকে পেছনে ফেলে আমাদের ট্রেন এগিয়ে চলল।
ধীরে ধীরে ব্যাস্ত , নোংরা শহুরে পথঘাট ফেলে আমরা পাহাড়ি রেল ট্রেকে চলতে লাগলাম।
ছবি:- জয়পুর আইতাসি। :P
|
২৫ সেপ, ২০১৩
চেনা পথে হারিয়ে যাওয়া এবং তাবুতে রাত্রি যাপনের একটি গল্প।
এ ক্যাম্পিং প্লানটা হটাৎ করেই। যদিও ফেসবুকে একটা ইভেন্ট দেওয়া ছিল “ সামার ক্যাম্পিং” নামে। আমাদের প্রাথমিক প্লান ছিল প্রথম রাত আমরা সীতাকুন্ডের একটা ঝর্ণার পাশে ক্যাম্প করবো , বারবিকিউ করবো। এবং দ্বিতীয় রাতটা আমরা মহামায়া লেকে ক্যাম্প করে কাটাবো।
যতটুকু সম্ভব কম ট্রেকিং এর চিন্তা ছিল। কারণ আবহাওয়া
প্রচন্ড গরম ছিল। গরম কালের একেবারে শুরুর সময়। এতই গরম পড়তেছিল যে ১০-১৫ মিনিটও
রোদে দাড়িয়ে থাকা যেতনা। চলুন গল্পটা পড়ি :-
১৭ সেপ, ২০১৩
খৈইয়াছড়া ঝর্ণায় তৃতীয় যাত্রা।
খৈইয়াছড়ার ঠিকানা আমাদের দেয়
এক সিএনজি ড্রাইভার। আমি জুমন আর মামুন ভাই যাচ্ছিলাম বড়
দারগার হাটে এক ঝর্ণায় , কিন্তু পথে সিএজি ওয়ালা বলল সে একটা বড় ঝরনা চেনে। তার
সুত্র ধরে এ বছরের জানুয়ারির
প্রথম সপ্তাহে যায় ওখানে। কিন্তু শুকনো মৌসুম হওয়ায় মূল ঝরনার পর
স্টেপর্সগুলার পর আর যাওয়া হয়নি। পানি ছিলনা,শুকনো শুকনো। আগ্রহ হারিয়ে
ফেল্লাম , সেদিন আর যাওয়া হলোনা। ওই ট্যুরের ছবির এলবাম দেখতে এখানে Click করুন।
এক জায়গায় বারাবার যেতে ইচ্ছে হয়না। তারাপরেও পুরা ঝিরিটা ট্রেক করবো বলে আবার যাই। জুনের ১ তারিখ। কিন্তু সেই একই ঘটনা। দলের কেউ শেষ স্টেপর্স এর পর যেতে চাইলোনা। পানির পরিমাণ তখন অনেক বেশি তাই। কদিন আগে ফ্লাসফ্লাডও হলো । এ ট্রিপের ছবির এলবাম দেখতে এখানে Click করুন।
এক জায়গায় বারাবার যেতে ইচ্ছে হয়না। তারাপরেও পুরা ঝিরিটা ট্রেক করবো বলে আবার যাই। জুনের ১ তারিখ। কিন্তু সেই একই ঘটনা। দলের কেউ শেষ স্টেপর্স এর পর যেতে চাইলোনা। পানির পরিমাণ তখন অনেক বেশি তাই। কদিন আগে ফ্লাসফ্লাডও হলো । এ ট্রিপের ছবির এলবাম দেখতে এখানে Click করুন।
এরপর মাথাই ঝোকটা আরো বড় হলো। এই খৈইয়া ছড়ার ঝিরির শেষ দেখবো। একদিন ছোট্ট একটা দল নিয়ে রওনা হয়ে গেলাম। স্টেপস গুলার
পরও আরো অনেক ভেতরে যাবো এই ইচ্ছা। গল্পটা নিচে পড়তে পারেন :-
৪ – জুলাই – ২০১৩
-------------------------------------------------------
১৩ সেপ, ২০১৩
ছোট দারগার হাটের সহস্রধারা ঝর্ণায় একদিন।
৫ – মে – ২০১৩
----------------------------------------------
এখন সময় ৯টারও বেশি , যদিও আমাদের সকাল সকাল বের হওয়ার
কথা। সায়েমকে ঘুম থেকে উঠাতে উঠাতে এত দেরি। আমরা যখন অলংকার মোড় এসে বাসের জন্য
দাড়ালাম তখন সুর্যটা পুরা জেগে উঠে গরমটা বাড়িয়ে দিল। আমি আর সাফায়েত মিলে
ইনস্টান্ট নুডলর্স আর সুপ নিয়ে নিলাম। লোকাল একটা বাসে উঠে বসলাম আমরা । আমি ,
সায়েম , তৌকির আর সাফায়েত , আসাদ ভাই জয়েন করবেন সিতাকুন্ড থেকে উনার বাসা
সেখানেই। বাস আমাদের ১১ টার মধ্যেই সিতাকুন্ড নামিয়ে দিল। আসাদ ভাই সেখানে আমাদের
জন্য অপেক্ষা করতেছিল। সিতাকুন্ডে নামার দুটা উদ্দেশ্য ছিল।নাস্তাটা সেরে নেওয়া আর
আসাদ ভাইকে পিক আপ করা। নইলে বাস একেবারে আমাদের ছোটদারগা হাটেই নামিয়ে দিত। সব
শেষে যাত্রা শুর হলো। একটা সিএনজি নিয়ে আমর ছোট দারগা হাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
১ সেপ, ২০১৩
ভারত ভ্রমণ :- পর্ব আগ্রা ( Land of immortal Love)
এর আগে কোলকাতা এবং দিল্লী নিয়ে লিখেছিলাম ধারাবাহিক ভাবে। যারা পড়েননি তারা কোলকাতার লিখাটা পড়ার জন্য এখানে Click করুন। আর দিল্লীর লিখাটি পড়ার জন্য এখানে Click করুন। আগে পড়ে থাকলে নিচের আগ্রার গল্পটিই পড়ুন :-
৩০/১১/২০১২
----------------------------------------------------------------------
দিল্লীতে বসে বসে প্লান বানাচ্ছি । প্লান ছিল আগামীকাল সকাল সকাল
আগ্রার উদ্দেশ্যে রওনা দেব। ওখানেই কোন হোটেলে উঠবো। রাতে মোবাইল ইন্টারনেটে (
সুপার মার্কেটের ওয়াইফাই দিয়ে মোবাইলে ) বিভিন্ন ভ্রমণ ফোরামে ও ব্লগ ঘুরে দেখলাম
আগ্রার হোটেল রেন্ট , খাওয়ার কস্ট সব বেশি। হাইলি টুরিস্ট এরিয়া। টুরিস্টে ভরপুর। তো
অনেক চিন্তা করে ৪০০ রুপিদিয়ে ‘রাজধানী ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস” এর আগ্রা ঘুরানোর বাসের টিকেট কেটে ফেল্লাম। বাস কাল ভোর ৫ টায় আমাকে
হোটেলের সামনে থেকে নিয়ে যাবে আগ্রাই এবং রাত ১০-১১টার মধ্যে আবার নামিয়ে দেবে
হোটেলর সামনে। সব ঠিক ঠাক করে রাতের খাবার জুমা মসজিদের ২ নং গেটের গলি থেকে
খেলাম। আইটেম বিশাল বিশাল নান রুটি আর সুপ (ছাগলের নলা) খেয়ে ঘুমাতে গেলাম খোশ
মেজাজে। কাল যে আমি ভালবাসার শহর আগ্রায় যাবো। তাজমহল দেখবো। :D
[ নোট :- দিল্লী থেকে আগ্রা অনেক ভাবেই যাওয়া যায় ।
টুরিস্ট বাস,নরমাল বাস,ট্রেন । ঝামেলা না চাইলে টুরিস্ট বাসই বেস্ট। কারণ সেটা
আপনাকে দিল্লির হোটেল থেকে তুলে নিয়ে রাতে আবার হোটেলে নামিয়ে দেবে। ভাড়া ৩৫০-৪০০ রুপি (নন
এসি)। আর যদি আপনি রাতে আগ্রায় থাকতে চান দিল্লি থেকে বিদায় নিয়ে তা হলে নরমাল একটা
বাসের টিকিট কাটতে পারেন। ]
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)