২০ নভে, ২০১৩

সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ে আমি বহুবার উঠেছি। যখনি মন খারাপ হয়েছে বা সীতাকুন্ডে ফুফূর বাসায় ঘুরতে যায় ওই পাহাড়ে উঠে যায় । আমি চন্দ্রনাথে উঠে মন্দিরের পাশের একেবারে খাদ ঘেসে যে পাথরের রেলিং আছে সেটাই বসে থাকতে ভালোবাসি। ভিউটা অসাধারণ লাগে দুরে সমুদ্র দেখা যায় মাঝে শহরটা ।এটা বোধহয় পাহাড়কে ভালোবাসি তাই। কিন্তু বাংলাদেশের পাহাড়ের স্বর্গ হলো বান্দরবান, যেটা আমার বাসা থেকে ৮০ কি:মি দুর আর চন্দ্রনাথ হলো মাত্র ৩৫ কি:মি দুরে। তাই চন্দ্রনাথে দিনে গিয়ে দিনে চড়ে আসা যায় বলে এ পাহাড়টার সাথে আমার একটা বন্ধুত্ব হয়ে গেছে।

প্রথম এই পাহাড়টাই আমাকে নিয়ে যায় আমার এক বন্ধু। সনজয় কুমার নাম ওর। দারুন একটা ছেলে। আজ সেই গল্পটাই লিখতে বসলাম :-

১১ নভে, ২০১৩

রিসাং ঝর্ণা আর আলুটিলার পথে।



এই ইভেন্টটা ACC বা এডভেন্চার ক্লাব আব চিটাগাং এর প্রথম অফিসিয়াল ইভেন্ট ছিল। এর আগেও ACC অনেক ক্যাম্পিং এবং ভ্রমণ ইভেন্ট করলেও এটা ছিল তাদের বা আমাদের প্রথম অফিসিয়াল ভ্রমণ ইভেন্ট। তখন আমি এ গ্রুপটার সাথে খুব ভালো ভাবেই যুক্ত ছিলাম। আমাদের আড্ডা বসতো চট্রগ্রাম শপিং কমপ্লেক্স এর পেছনের একটা গলিতে। এই আড্ডার মধ্য মনি সবসময় থাকতো মো: জাফর বেগ ভাই। আর ১৫০ সি:সি মোটর বাইক নিয়ে সবসময় দেরি করে আসতো চন্দন ভাই। সেই আড্ডা খানায় লেবু দেওয়া রং চা খেতে খেতে একদিন হুট করেই প্লান হলো যে আমরা খাগড়াছড়ি যাবো। রিসাং ঝর্ণায় প্যান্ট ছিড়বো। আলুটিলার গুহায় হারিয়ে যাবো। :-

২৯ অক্টো, ২০১৩

ক্যাম্পারভ্যানে নিজের দেশ ঘুরা দেখা।

আমার একবার সুযোগ হয়েছিল নিজের দেশটাকে কিছু বিদেশীদের সাথে তাদেরই ক্যাম্পার ভ্যানে বা  হোম ভিহাইকেল করে ঘুরে দেখার। অসাধারণ একটা ট্রিপ ছিল আমার জন্য। ৩৩ জন বিদেশি যাদের বেশির ভাগ জার্মানির এবং কয়েকজন স্পেন , কয়েকজন ইতালীর , একজন ভারতীয় এবং একজন ইরানের ছিল।
এই ১৭ দিনে আমরা যশোর থেকে যাত্রা শুরু করি। রুট প্লান ছিল এরকম :- যশোর - ঢাকা - চট্রগ্রাম - কক্সসবাজার - টেকনাফ - কেরানী হাট  বান্দরবান - রাঙ্গামাটি- চট্রগ্রাম - কুমিল্লা - মৌলভীবাজার - টাঙ্গাইল - রংপুর - বুড়িমারি।  অর্থাৎ আমারা পুরা বাংলাদেশে একটা Y এর মত ট্যুর দিয়েছিলাম। তখন দেশের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এই ১৭ দিনে আমরা ৪টি হরতালের মুখোমুখি হই। যার ফলে ঘুরা ঘুরি খুবই কমই হয়েছিল বলতে গেলে খালি ড্রাইভ আর ড্রাইভ করেছি আমরা। যেহেতু আমাদের সাথের গাড়ি গুলোতে থাকা , রান্না করা , বাথরুম , টিভি সব ছিল। হরতালেও আমরা কম মজা করিনি। গাড়ি চালিয়ে বাংলার রাস্তায় রাস্তায় দাপিয়ে বেড়িয়েছি , আর যেখানে খুশি ক্যাম্প করেছি। এ যাত্রার গল্পটি নিচে লিখলাম। আমার অন্যান্য লিখার মত বিস্তারিত লিখতে পারিনি কারণ ট্রিপটা অনেক আগের ছিল। আর যে ডায়েরিতে সব লিখেছিলাম তা পথে হারিয়ে ফেলি। যা মনে আছে তাই লিখলাম। আর ছবিও অতো বেশি তুলিনি। যশোরের কিছু ছবি আমার এক ছোট ভাই কাম প্রিয় ফটোগ্রাফার ( সাজ্জিদ ) এর ক্যামেরার থেকে নিয়েছি। গল্পটা পড়তে পারেন এখানে  :-

১৩ অক্টো, ২০১৩

বান্দরবানে হারিয়ে যাওয়ার গল্প।

শেষ কবে বান্দরবান গিয়েছিলাম ? এইতো কদিন আগেইতো। কিন্তু সেগুলো ছিলো সিটি ট্যুর বা কোন কাজে। এডভেন্চারের উদ্দেশ্যে বহুদিন বান্দরবান যাওয়া হয়না। শেষ এডভেন্চারের গিয়েছিলাম নাপাখুম / নাফাখুম। এরপর সীতাকুন্ড , মীরসরাইয়ে এডভেন্চার , হাইকিং এবং ক্যাম্পিং এর লোভে আটকা পড়েছিলাম। বাংলার স্বর্গের কথা ভুলতে বসেছিলাম। তাই উঠে পড়ে লাগলাম। চাতুর কাক ভাই,রাব্বি ভাই এবং সালেহীন ভাইকে খুচিয়ে খুচিয়ে তথ্য সংগ্রহে লেগে গেলাম। মেলা পিড়া দেওয়া শুরু করলাম তাদের :P । অনেক প্লান করলাম। রুট ঠিক করলাম। গুগল আর্থে ওই স্থান গুলোই ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে বাসায় বসে বসেই ঘুরতে লাগলাম। হাফ ঘুরাতো গুগল আর্থেই যেন সেরে ফেল্লাম। একবার প্লান হয় ক্রিজ হাং / তাং যাবো বা আরেকবার প্লান করি টোয়াইন খালে ঘুরবো এদিক সেদিক। ফেসবুকে ইভেন্ট হলো। জুমন ভাইকে হোস্ট বানালাম। কিন্তু বেটা শেষ মুহুত্বে পিঠ দেখালো। বন্ধুর বিয়ে। বান্দরবানের মুরং তরুণীদের সাথে দেখা করার থেকে তার কাছে তখন বিয়ের আসরে নতুন ভাবী আর তার বোনদের সাথে দেখা করার আগ্রহ বেশী ছিল। যাই হোক শেষ মুহুত্বে সে বাদ গেল। এর পর রুপা দিদি ... যিনি প্রায় দুই মাসের মত আমাদের সাথে এই ট্রিপে যাওয়ার প্লান করতেছিল তিনি শেষ মুহুত্বে একেবারে বাসে উঠার ঘন্টা খানেক আগে ফোনে বলল সজল আমি যাবোনারে , অফিসের জরুরী মিটিং .. মনটাই খারাপ হয়ে গেল। শেষে চট্রগ্রাম থেকে ২৬-০৯-২০১৩ তে বিকাল চারটায় শুধু আমি আর হাফিজ ভাই রওনা দিলাম। ঢাকা থেকে তপন দা , প্লাবন ভাই আর দলের সবচেয়ে কিউট ছেলে ইউসুফ ভাই রওনা দিল।

এ ট্রিপে অনেক কিছুই হইছে। আমরা পথ হারাইছি , তপন দাদার (উনাকে শহরে ভাই ডাকা যেতে পারে ) ঝারি খাইছি :P , ঝোঁকের সাথে যুদ্ধ করছি , তপন দাদা জিপিএস নিয়ে ডিসপ্লের দিকে তাকিয়ে যেদিকে হাটা ধরছে , তার পেছন পেছন আমরা ভেড়ার পালের মত খালি হাটছি আর উঠছি , রাতে সাংগা দাদার জুম ঘরে রাত কাটাইছি , সজারুর কাচা মাংস খেয়ে ওয়াক থু থু করছি। কই যে গেছি নিজেরাও যানিনা।
হা এখন বলতে পারেন ট্রিপে আমরা কোনটাই সফল হইনি। না ক্রিজ হাং এর সামিট পয়েন্টে গেছি না রুংরাং এর সামিট পয়েন্ট পাইছি। আবার টোয়াইন খালের ধরে বেশি দুরও যাইনি। কি ? মনে মনে বলতেছেন .. হুর ভুয়া ট্রিপ দিসে...কিস্সুই তো হইনি এই ট্রিপে।  আমি বলবো সবকিছু যদি প্লান মত হয় তবে সেটাকে এডভেন্চার বলেনা , আর একটা ভ্রমণ যাত্রায় আমার মতে গন্তব্যের থেকে যাত্রাটায় বড়। এই ট্রিপটা আমার করা সেরা ট্রিপগুলার একটা অবশ্যই। আর হাফিজ , তপন দাদা , প্লাবন ভাই আর ইউসুফ ভাই ছাড়া এটা সম্ভব ছিলনা।

আরে কই যান ? উপরের লিখা গুলাতো শুরু ছিল .. মুল গল্প নিচে। :-


৭ অক্টো, ২০১৩

ভারত ভ্রমণ।পর্ব – জয়পুর (দি সিটি অব পিংক)


২-১২-২০১২
----------------------------------
সকাল ১২:৩০ এর ট্রেন। ব্যাকপ্যাক কাধে আর হাতে টিকিট নিয়ে প্লাটফর্মে দাড়িয়ে আছি। বসার কোন স্থান নেই। মানুষ আর মানুষ। হেলে দুলে ট্রনটা আসলো ১২:৪০ এ।ঠেলে ঠুলে উঠে বসলাম নিদৃষ্ট সিটে। ট্রেনের নাম আস্রম এক্সপ্রেস এটা মনে হয় এহমেদাবাদ পর্যন্ত যায়।আমি নেমে যাবো জয়পুরে। দিল্লী শহরটাকে পেছনে ফেলে আমাদের ট্রেন এগিয়ে চলল। ধীরে ধীরে ব্যাস্ত , নোংরা শহুরে পথঘাট ফেলে আমরা পাহাড়ি রেল ট্রেকে চলতে লাগলাম।

ছবি:- জয়পুর আইতাসি। :P

২৫ সেপ, ২০১৩

চেনা পথে হারিয়ে যাওয়া এবং তাবুতে রাত্রি যাপনের একটি গল্প।


ক্যাম্পিং প্লানটা হটাৎ করেই। যদিও ফেসবুকে একটা ইভেন্ট দেওয়া ছিল সামার ক্যাম্পিং নামে। আমাদের প্রাথমিক প্লান ছিল প্রথম রাত আমরা সীতাকুন্ডের একটা ঝর্ণার পাশে ক্যাম্প করবো , বারবিকিউ করবো। এবং দ্বিতীয় রাতটা আমরা মহামায়া লেকে ক্যাম্প করে কাটাবো।

যতটুকু সম্ভব কম ট্রেকিং এর চিন্তা ছিল। কারণ আবহাওয়া প্রচন্ড গরম ছিল। গরম কালের একেবারে শুরুর সময়। এতই গরম পড়তেছিল যে ১০-১৫ মিনিটও রোদে দাড়িয়ে থাকা যেতনা। চলুন গল্পটা পড়ি :-

১৭ সেপ, ২০১৩

খৈইয়াছড়া ঝর্ণায় তৃতীয় যাত্রা।



খৈইয়াছড়ার ঠিকানা আমাদের দেয় এক সিএনজি ড্রাইভার আমি জুমন আর মামুন ভাই যাচ্ছিলাম বড় দারগার হাটে এক ঝর্ণায় , কিন্তু পথে সিএজি ওয়ালা বলল সে একটা বড় ঝরনা চেনে। তার সুত্র ধরে এ বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে যায় ওখানেকিন্তু শুকনো মৌসুম হওয়ায় মূল ঝরনার পর স্টেপর্সগুলার পর আর যাওয়া হয়নিপানি ছিলনা,শুকনো শুকনোআগ্রহ হারিয়ে ফেল্লাম , সেদিন আর যাওয়া হলোনা। ওই ট্যুরের ছবির এলবাম দেখতে এখানে Click করুন
 

এক জায়গায় বারাবার যেতে ইচ্ছে হয়না। তারাপরেও পুরা ঝিরিটা ট্রেক করবো বলে আবার যাইজুনের ১ তারিখকিন্তু সেই একই ঘটনাদলের কেউ শেষ স্টেপর্স এর পর যেতে চাইলোনাপানির পরিমাণ তখন অনেক বেশি তাই কদিন আগে ফ্লাসফ্লাডও হলো । এ ট্রিপের ছবির এলবাম দেখতে  এখানে Click করুন।

এরপর মাথাই ঝোকটা আরো বড় হলোএই খৈইয়া ছড়ার ঝিরির শেষ দেখবোএকদিন ছোট্ট একটা দল নিয়ে রওনা হয়ে গেলামস্টেপস গুলার পরও আরো অনেক ভেতরে যাবো এই ইচ্ছাগল্পটা নিচে পড়তে পারেন :-


৪ – জুলাই – ২০১৩
-------------------------------------------------------  


১৩ সেপ, ২০১৩

ছোট দারগার হাটের সহস্রধারা ঝর্ণায় একদিন।


মে ২০১৩
----------------------------------------------
এখন সময় ৯টারও বেশি , যদিও আমাদের সকাল সকাল বের হওয়ার কথা। সায়েমকে ঘুম থেকে উঠাতে উঠাতে এত দেরি। আমরা যখন অলংকার মোড় এসে বাসের জন্য দাড়ালাম তখন সুর্যটা পুরা জেগে উঠে গরমটা বাড়িয়ে দিল। আমি আর সাফায়েত মিলে ইনস্টান্ট নুডলর্স আর সুপ নিয়ে নিলাম। লোকাল একটা বাসে উঠে বসলাম আমরা । আমি , সায়েম , তৌকির আর সাফায়েত , আসাদ ভাই জয়েন করবেন সিতাকুন্ড থেকে উনার বাসা সেখানেই। বাস আমাদের ১১ টার মধ্যেই সিতাকুন্ড নামিয়ে দিল। আসাদ ভাই সেখানে আমাদের জন্য অপেক্ষা করতেছিল। সিতাকুন্ডে নামার দুটা উদ্দেশ্য ছিল।নাস্তাটা সেরে নেওয়া আর আসাদ ভাইকে পিক আপ করা। নইলে বাস একেবারে আমাদের ছোটদারগা হাটেই নামিয়ে দিত। সব শেষে যাত্রা শুর হলো। একটা সিএনজি নিয়ে আমর ছোট দারগা হাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

ছবি:- যাত্রা তবে শুরু।

১ সেপ, ২০১৩

ভারত ভ্রমণ :- পর্ব আগ্রা ( Land of immortal Love)


এর আগে কোলকাতা এবং দিল্লী নিয়ে লিখেছিলাম ধারাবাহিক ভাবে। যারা পড়েননি তারা কোলকাতার লিখাটা পড়ার জন্য এখানে Click করুন। আর দিল্লীর লিখাটি পড়ার জন্য এখানে Click করুন। আগে পড়ে থাকলে নিচের আগ্রার গল্পটিই পড়ুন :-

৩০/১১/২০১২
----------------------------------------------------------------------
দিল্লীতে বসে বসে প্লান বানাচ্ছি । প্লান ছিল আগামীকাল সকাল সকাল আগ্রার উদ্দেশ্যে রওনা দেব। ওখানেই কোন হোটেলে উঠবো। রাতে মোবাইল ইন্টারনেটে ( সুপার মার্কেটের ওয়াইফাই দিয়ে মোবাইলে ) বিভিন্ন ভ্রমণ ফোরামে ও ব্লগ ঘুরে দেখলাম আগ্রার হোটেল রেন্ট , খাওয়ার কস্ট সব বেশি। হাইলি টুরিস্ট এরিয়া। টুরিস্টে ভরপুর। তো অনেক চিন্তা করে ৪০০ রুপিদিয়ে রাজধানী ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস এর আগ্রা ঘুরানোর বাসের টিকেট কেটে ফেল্লাম। বাস কাল ভোর ৫ টায় আমাকে হোটেলের সামনে থেকে নিয়ে যাবে আগ্রাই এবং রাত ১০-১১টার মধ্যে আবার নামিয়ে দেবে হোটেলর সামনে। সব ঠিক ঠাক করে রাতের খাবার জুমা মসজিদের ২ নং গেটের গলি থেকে খেলাম। আইটেম বিশাল বিশাল নান রুটি আর সুপ (ছাগলের নলা) খেয়ে ঘুমাতে গেলাম খোশ মেজাজে। কাল যে আমি ভালবাসার শহর আগ্রায় যাবো। তাজমহল দেখবো। :D

[ নোট :- দিল্লী থেকে আগ্রা অনেক ভাবেই যাওয়া যায় । টুরিস্ট বাস,নরমাল বাস,ট্রেন । ঝামেলা না চাইলে টুরিস্ট বাসই বেস্ট। কারণ সেটা আপনাকে দিল্লির হোটেল থেকে তুলে নিয়ে রাতে আবার হোটেলে নামিয়ে দেবে। ভাড়া ৩৫০-৪০০ রুপি (নন এসি)। আর যদি আপনি রাতে আগ্রায় থাকতে চান দিল্লি থেকে বিদায় নিয়ে তা হলে নরমাল একটা বাসের টিকিট কাটতে পারেন। ]

২৮ আগ, ২০১৩

ছেঁড়া দ্বীপে ক্যাম্পিং ।



হটাৎ করেই প্লান। যেহেতু আগে আমার সেন্টমার্টিনে ক্যাম্প করা হয়েছে তাই এবার প্লান হলো আমরা প্রথম দিন সেন্টমার্টিন হয়ে সোজা ছেঁড়া দ্বীপে গিয়ে ক্যাম্প করবো।যাওয়ার আগে অনেক কে বললাম যাবে কিনা। কিন্তু হাতে সময় ছিল মাত্র ২৪ ঘন্টার ও কম। তাই অনেকেরই ইচ্ছা থাকলে যাওয়া হলোনা। যদিও আমি লিমিট দিয়েছিলাম ৪ জনের বেশি কোনভাবেই নই। তো জুমন ভাই টিকিট কাটলো। দুটা টিকিট সেই রাত দুটার বাসের।

[নোট:- চট্রগ্রাম থেকে গভীর রাতে অনেক বাসই টেকনাফ যায় সোদিয়া এস আলম এর ২ টার পর দুটা বাস টেকনাফের উদ্দেশ্যো ছাড়েআর শাহ আমিন সার্ভিসের একটা বাসএস আলমের ঔই বাস দুটার টিকিট কাটতে হলে আপনাকে সিনেমা প্যেলেস এর মোড়ের ( ন্দনকানন ) এর সোদিয়া কাউন্টারে যেতে হবে , বাস দুটাই প্রতিদিন রাতের ২ থেকে ২:৪০ এর মধ্যে ছেড়ে যায়শাহ আমিন বাসের মেইন অফিস দেওয়ান হাটেদুই কম্পানির বাসের টিকিটই ৪০০ টাকা জনপ্রতিতো প্রশ্ন করতে পারেন রাতের ২ টাই কেন টেকনাফ যাবো ? ভোরে নই কেন? কারণ সেন্ট মার্টিনের জন্য টেকনাফ দমদমিয়া ঘাট থেকে সব জাহাজ বা ভেসেল সকাল ৯:৩০ এর মধ্যেই ছেড়ে যায়রাতের বাসে উঠলে আপনি ঠিক সময়ে পোছে যাবেনঅন্যথায় মাছ ধরার বা যাত্রি টানার সার্ভিস ট্রলারে যেতে হবে ট্রলার যাত্রা এডভেন্চার হলেও , গভীর সমুদ্রে খুবই বিপদ জনক ]



০৬/ ফেব্রুয়ারী/২০১৩
-----------------------------------------------------------------------------
রাত তখন প্রায় ১২টা-১টা হবে। আমি আর জুমন ভাই নন্দন কানন এর বাস কাউন্টারের সামনে বসে বসে চা খাচ্ছি। জুমন শুরু করলো তার চির চারিত খাবারের গল্প। সে নাকি আজ রাতে কোথা থেকে বিরিয়ানি খাইছে। এই সেই। আমি বচোরা বাসা থেকে কিছু না খেয়েই বের হইছি। 

২৩ আগ, ২০১৩

পকেট চুলা কিভাবে বানাবেন ?(হাইকিং এন্ড ক্যাম্পিং গিয়ার)


অনেকে হয়তো খেয়াল করবেন বর্তমানে যারা হাইকিং এবং ক্যাম্পিং এর মত আউট ডোর স্পোর্ট গুলা করে তারা নিজেদের খাবার দাবার নিজেরাই রান্না করে। কেউ হয়তো শুকনো কাঠ পুড়িয়ে কেউ কেউ ছোট্ট পকেট সাইজের চুলা দিয়ে। বাংলাদেশেরই অনেক হাইকার এবং ক্যাম্পার এ চুলা অনেকদিন ধরে ব্যাবহার করে আসছে।আর এ চুলাটা এখন অনেক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এর ছোট সাইজ আর হালকা ওজনের জন্য। এটি নিজে নিজেই বানানো যায়। আজ এ পোস্ট আমি শেখানোর চেস্টা করবো কিভাবে এটা আপনি বানাতে পারবেন।

প্রথমে যা যা লাগবে।

১/ দুটা সোডা / কোক বা বিয়ারের খালি  ক্যান।
২/ একটা সিজর বা কেচি।
৩/ একটা রঙ্গিন মার্কার।
৪/ একটা প্লায়ার্স।
৫/ কাগজ লাগানোর জন্য নোটিশ বোর্ডে ব্যাবহার করার একটা পিন। ক্লিপ বোর্ড পিন।
৬/ সিরিজ কাগজ। লোহার জং ঝরানোরটা।


২১ আগ, ২০১৩

সোনাদিয়া দ্বীপে ক্যাম্পিং।


৫/১০/২০১১
ঘড়িতে তখন প্রায় ৪ টা বাজে। আমার তখনো কোন ভাল ট্রেকিং করার ব্যাকপ্যাক ছিলনা। যেটা নিয়ে ট্রেকিং , সাইকেলিং করতাম সেটা অন্য একজন ধার হিসেবে নিয়ে গেছে। কাপড়ের একটা স্কুলব্যাগে স্লিপিং ব্যাগ , কিছু শুকনো খাবার , কাপড় , চার্জ লাইট নিয়ে নিলাম। এক হাতে টেন্ট আর অন্য হাতে লাইফ জেকেট।জাফর ভাইয়ের এপার্টমেন্টে বসে আছি,আর বার বার ঘড়ি দেখতেছি। কারণ আমার হিসাব মতে আমরা অনেক দেরি করে ফেলতেছি। এখান থেকে আমাদের কক্সবাজারের বাস ধরতে হবে। উনার মধ্যে তাড়াহুড়া দেখলামনা। যেন কাল কোন ট্রিপই নেই। উনি ঘুমাচ্ছিলেন। আমি যাওয়ার পর আস্তে আস্তে রিডি হতে লাগলেন। আমার যখন বের হলাম অন্ধকার হয়ে আসছে প্রায়। উনি একটা দোকানে ঢুকলেন তিন চার পেকেট সিগারেট,একটা টয়লেট টিশু আরো কত কি কিনতে লাগলেন। আমি বাইরে অপেক্ষা করতে লাগলাম। উনি যখন বের হলেন আমি ভাবলাম যাক এখন মনে হয় যাত্রা শুরু। কিন্তু উনি তো উনি। টুপ করে শপিং এর পেছনের সেলুনের ভেতরে ঢুকে গেল। শেভ করবেন। আমি তখন চরম বিরক্ত।শেষ মেষ একটা রিক্মা নিয়ে আমরা বহদ্দারহাট বাস স্টেন্ড থেকে এস আলম বাসের টিকিট কেটে রওনা দিলাম। গন্তব্য কক্সবাজার । পরেরদিন ট্রাভেলারর্স আব বাংলাদেশ নামে একটা গ্রুপের সাথে সোনাদিয়া দ্বীপে গিয়ে তাবুতে থাকার প্লান। এই গ্রুপের সাথে আমার প্রথম ট্রিপ হবে এটা। আমরা লোহাগাড়ায় নাম্তা সারলাম। এরপর কোনসময় কক্সবাজার পোছালাম টেরই পেলামনা। আমাদের রাতে কক্সবাজার থাকার প্লান। যেহেতু ট্রাভেলারর্স আব বাংলাদেশ টিম ঢাকা থেকে অলরেডি রওনা দিয়েছে এবং ভোরে এখানেই নামবে।আমি আর জাফর ভাই হেটে হেটে হোটেল খুজতে লাগলাম। হোটেল রেন্ট নিয়ে একটু টেনসেনে ছিলাম। একতো রাত তার উপর টুরিস্ট সজিন শুরু হচ্ছে। রাস্তার পাশে নোয়াখালী হোটেল নামে একটা সাইনবোর্ড দেখে থমকে দাড়ালাম। রুম রেন্ট নিয়ে প্রশ্ন করতেই বলল ২৫০ টাকা লাগবে। আমরা তো ওবাক। এত্ত কম!! জাফর ভাই ফাজলেমো করে জিগ্যাসা করলো আর কম হবে কিনা ? লোকটা ২০০ করে দিল রেন্ট। :D .. একটা নরমাল হোটেলে রাতের খাবার খেয়ে নিয়ে কক্সবাজারে আমার সবচেয়ে কম দামে ভাড়া নেওয়া রুমে গেলাম ঘুমাতে। আমাকে কানের উপর বালিশ চাপা দিয়ে ঘুমাতে হলো কারণ জাফর বেগ সাহবে তার বান্ধবীর সাথে আনেক রাত পর্যন্ত ফোনে কথা বলেই চললো।
[ নোট:- চট্রগ্রাম থেকে প্রতি ১০-১৫ মিনিট পরপরই বাস পাওয়া যায় কক্সবাজার পর্যন্ত। ভাড়া ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা। নতুন ব্রিজ বা বহদ্দারহাট থেকে বাস পাবেন। এস আলম , শ্যামলী , শ্যামলী মা সহ নানান বাস। কক্সবাজারে হোটেলের অভাব নেই। ভাড়া কমের হোটেল চাইলে কলাতলি রোড বা বিচ সংলগ্ন হোটেল না দেখে একটু ভেতরে দেখতে পারেন।]

৬/১০/২০১১
-----------------------------------------------------------------------
সকালে ভোরে উঠে আমরা গেলাম ফিশারী ঘাটে। সকাল বেলা সব মাছের ট্রলার সারা রাত মাছ ধরে ফেরত আসতে শুরু করছে। মাছে মাছে পুরা ঘাট ভরপুর। অদ্ভুত অদ্ভুত অনেক মাছ দেখলাম। মানতে লজ্জা নেই ওখানে দেখা ১০০ প্রকারের মাছের মধ্যে ৯০ প্রকারের মাছই আমি চিনিনা বা নাম জানিনা। কিছু মাছের ছবি দিলাম নিচে।
ছবি:- নাম না জানা কিছু মাছ।